অফিস খোলার ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ হবে এসএসসির ফল : শিক্ষা সচিব
সাধারণ ছুটি শেষ হওয়ার অর্থাৎ অফিস খোলার ১৫ দিনের মধ্যেই এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। আজ মঙ্গলবার শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষাসচিব সব বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করেন। সেখানে এসএসসির ফল প্রকাশ ও স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, এসএসসির ফলাফলের ব্যাপারে তাদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ও এমআর শিটগুলো নিয়ে প্রধান পরীক্ষকরা বোর্ডে আসতে পারছেন না। আর অফিসও বন্ধ আছে। অফিস খোলার পর ওএমআর শিট স্ক্যানিং এবং নৈবেত্তিক ও রচনামূলক অংশের নম্বর সমন্বয় করতে ১৫ দিন সময় লাগবে।
শিক্ষা সচিব বলেন, সাধারণ ছুটি কবে শেষ হবে সে ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে বোর্ড চেয়ারম্যানরা জানিয়েছেন অফিস খোলার পর তারা ডাবল শিফটে কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে তাদের ফলাফল প্রস্তুত করতে ১৫ দিনের বেশি সময় লাগবে না।
জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় এবং ৫ মার্চ ব্যাবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর। শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, এক যুগ ধরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হওয়ার কথা; কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না এসএসসির ফল। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ২৫ এপ্রিলের পর সাধারণ ছুটি আরো বাড়বে বলে জানা গেছে ।
আন্ত শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে এসএসসির ফল প্রকাশের সুযোগ নেই। গত ২৬ মার্চ সব কিছু বন্ধ হওয়ার আগেই আমাদের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি। পরীক্ষকরা খাতা দেখে প্রধান পরীক্ষকদের কাছে জমা দিয়েছেন।’
অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা ডাবল শিফটে কাজ করব। তাতেও ওএমআর স্ক্যানিং শেষ করে নৈর্ব্যক্তিক ও রচনামূলকের নম্বর সমন্বয় করতে ১৫ দিন সময় লাগবে। যেদিনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেদিনই এইচএসসি পরীক্ষার শুরু করার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পরে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু করা হবে।
করোনার প্রাদুর্ভাব রোধ করতে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফা বাড়িয়ে তা এখন ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঠেকেছে। এরপর যেহেতু শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে রোজা ও ঈদের ছুটি রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঈদ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। কিন্তু দেশে যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ঈদের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks for our website visit