গাজায় অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা ইসরায়েলের
ইসরায়েল এর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরায়েলী নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত গাজায় অভিযান চলবেই।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
এমনকি হামাস-এর তৈরি করা টানেলগুলো ধ্বংস করার পরেও ইসরায়েলী আর্মি গাজায় অভিযান চালাবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।
হামাসকে হুঁশিয়ারি জানিয়ে মি. নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েলে আক্রমণ করার অপরাধে হামাসকে ‘দুঃসহ মাশুল’ দিতে হবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আশায় মিশরের কায়রোতে যে আলোচনা চলছে মি. নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার সেই আশা একেবারেই শূন্যে মিলিয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এর জবাবে হামাস বলছে, তাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারাও তাদের লড়াই চালিয়ে যাবে।
গাজার চারদিকে ইজরায়েলের যে ভু-অবরোধ আছে, তা তুলে নেয়ার দাবি করছে হামাস।
এদিকে গাজায় জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সেখানকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তা ক্রিস গুয়েনেস বলেছেন, গাজার চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে ।
তিনি বলছেন, হাসপাতাল ক্লিনিক এবং এ্যাম্বুলেন্স ধ্বংস হয়ে গেছে এবং চল্লিশ শতাংশের বেশি চিকিৎসা কর্মী অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
ইসরায়েলি ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত দুই শতাধিক
গাজায় শুক্রবারের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দু'শ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
এসব মৃত্যুর বেশির ভাগই ঘটেছে দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায়। ইসরায়েলি হামলার অন্যতম লক্ষ্যস্থল ছিল রাফাহ, যেখানে ফিলিস্তিনিদের হাতে একজন ইসরায়েলি সৈন্য ধরা পড়েছে বলে মনে করা হয়।
নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক লোক। প্রচন্ড গোলাবর্ষণের কারণে রাফাহ-র প্রধান হাসপাতালটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এ নিয়ে গাজায় ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১,৬৫০ ছাড়িয়ে গেছে, যার অধিকাংশই বেসামরিক লোক। ইসরায়েলি পক্ষে ৬৩ জন সৈন্য ও দুজন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।
শুক্রবার ৭২ ঘন্টার যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বলবত হয়েছিল তা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভেঙে পড়ে। দু পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনে।
অন্যদিকে এরই মধ্যে মিশরের উদ্যোগে শুরু হয়েছে নতুন একটি যুদ্ধবিরতির চেষ্টা।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল-সিসি বলছেন, সবশেষ এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হবার জোর সম্ভাবনা আছে। মি আল-সিসি বলেন, মিশরের এই পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই।
হামাসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে একটি ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদল আজই কায়রো পৌঁছাচ্ছে। তবে ইসরায়েল কোন প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
রাফাহ-য় দুজন ইসরায়েলি সৈন্যও নিহত হয়েছে।
এছাড়া একজন ইসরায়েলি সৈন্য ফিলিস্তিনিদের হাতে ধরা পড়েছে। হামাস বলছে, গাডার গোলড্নি নামে ওই নিখোঁজ ইসরায়েলি সৈন্যটি কোথায় আছে বা তার কি হয়েছে - এ সম্পর্কে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই। সে যুদ্ধে নিহত হয়ে থাকতে পারে - এ কথাও বলা হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, ওই সৈন্যটিকে সম্ভবত ফিলিস্তিনি জঙ্গীরা ধরে নিয়ে গেছে।
ইসরায়েলি বাহিনী 'আয়রন ডোম' নামে যে রকেট-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে - তা আজ বীরশেবা এবং তেলআবিবের আকাশে তিনটি রকেট ঠেকিয়ে দিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thanks for our website visit